Attack On Heart Cahpter 1-3 | বাংলা গল্প হৃদয়ে আঘাত |

Attack On Hert Part 01: প্রাচীরের ওপারে



শ্রেণি: কল্পকাহিনী ·

  • সংক্ষিপ্ত ভূমিকা — Attack on Hert

একশ বছর ধরে মানবজাতি শান্তিতে ছিল। বিশাল প্রাচীর, যার নাম মারিয়া, মানবতাকে বাইরের ভয়ঙ্কর টাইটানদের থেকে সুরক্ষিত রেখেছিল। এই প্রাচীরের এক কোণে অবস্থিত ছোট্ট শহর শিগানসিনা। শহরের রাস্তাগুলো সবসময় প্রাণোচ্ছল মানুষের কলরবে মুখরিত থাকত, আর এরেন ইয়েগার, তার প্রিয় বন্ধু আরমিন ও পালক বোন মিকাসার সাথে শহরের জীবন উপভোগ করত। কিন্তু এরেনের মনে অন্য এক স্বপ্ন ছিল — প্রাচীরের বাইরে গিয়ে অজানা পৃথিবীর রহস্য উন্মোচন করা।

হঠাৎ যে আতঙ্ক এসে যায়

একদিন শান্ত পরিবেশ হঠাৎই ভেঙে পড়ল। আকাশে মেঘের মতো একটি বিশাল আকৃতি দেখা গেল, মানুষের মতো অবয়ব — কলোসাল টাইটান। এই দানব প্রাচীরের উপর আঘাত করল। একটি মাত্র আঘাতে শত বছরের প্রাচীর ভেঙে গেল এবং সেই ফাঁক দিয়ে দলে দলে টাইটান শহরে প্রবেশ করল।

  • দুঃস্বপ্নের শুরু

শহরজুড়ে শুরু হলো এক ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ। টাইটানরা মানুষদের আক্রমণ করতে লাগল। এরেন, আরমিন ও মিকাসা দ্রুত তাদের বাড়ি অভিমুখে দৌড়াল। তারা দেখে এরেনের মা, কার্লা ইয়েগার, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। এরেন ও মিকাসা তাকে টেনে বের করার চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। আরমিন বলল, "পালাও! তোমরা এখান থেকে পালিয়ে যাও!" — কিন্তু তারা মায়ের কাছে থাকতে চায়।

হঠাৎ একটি কুৎসিত স্মাইলিং টাইটান তাদের সামনে এসে দাঁড়াল। হ্যানেস — এরেনের পরিবারের রক্ষী — তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে আসেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেন তার ক্ষমতার বাইরে এই পরিস্থিতি। তিনি এরেন ও মিকাসাকে টেনে নিয়ে পালান, আর তাদের চোখের সামনে স্মাইলিং টাইটান কার্লাকে তুলে ধরে, তার মেরুদণ্ড ভেঙে তাকে খেয়ে ফেলে। এরেন ও মিকাসার চোখ দিয়ে অনবরত জল ঝরতে থাকে।

  • প্রতিশোধের শপথ

এরেন, মিকাসা ও আরমিন অনেক মানুষের সাথে একটি জাহাজে করে অন্য সুরক্ষিত প্রাচীর, রোজে, চলে যায়। যাত্রার সময় এরেন বারবার মায়ের মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্রটি দেখেন এবং তার মনে এক তীব্র প্রতিশোধের আগুন জ্বলতে থাকে। সে কণ্ঠে প্রতিজ্ঞা করে — "আমি এই পৃথিবীতে থাকা প্রতিটি টাইটানকে ধ্বংস করব। একটিও বেঁচে থাকবে না!"

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এরেনের নতুন জীবন শুরু হয় — প্রতিশোধ, লড়াই এবং কঠিন সিদ্ধান্তের ভিত্ররে গড়া। এই প্রথম অধ্যায়ে মানবজাতির দুর্বলতা, ভয় এবং আশা—সবই ফুটে উঠল।

 Attack on Heart Chapter 2

"সেই দিন" — (That Day)(বাংলা রূপান্তর — ধারাবাহিক গল্পরূপে)
ফিরে দেখা

  • বেঁচে থাকাটা ছিল এক অলৌকিকতা।

এরেন, মিকাসা আর আরমিন – তিন বন্ধু, যারা একদিন শিগানসিনার রাস্তায় খেলত, এখন শরণার্থী হয়ে দিন কাটাচ্ছে Wall Rose-এর এক অস্থায়ী ক্যাম্পে। চারপাশে হাজারো মানুষের ভিড়, ক্ষুধা, ক্লান্তি আর আতঙ্কে মুখভঙ্গিমা। মানুষের এই দুর্দশা যেন এক জীবন্ত অভিশাপ, প্রাচীরের পতনের পর মানবজাতির আসল রূপ প্রকাশ পেয়েছে।

এরেন চুপচাপ বসে আছে। মাথা নিচু। চোখের পাতা বন্ধ করলেই একটি দৃশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠে—তার মায়ের মৃত্যু। স্মাইলিং টাইটান যখন মাকে তুলে নিয়ে গেল, সেই মুহূর্ত যেন চোখে গেঁথে গেছে। শত কাঁদলেও যেন সেই দৃশ্য মুছে ফেলার নয়।

কিন্তু শুধু কান্নায় কিছু হবে না — এই সত্য এখন তার ভেতরে স্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছে।


  • একটি স্বপ্ন, একটি প্রতিজ্ঞা

সেই রাতেই, এরেন দুঃস্বপ্নে কাঁপে উঠে বসে। ঘামে ভেজা কপালে হাত দিয়ে দেখে—সে কিছু মনে করতে পারছে না, কিন্তু হৃদয়ে এক অজানা আতঙ্ক। মনে পড়ে, বাবার দেওয়া সেই চাবি। বেইসমেন্ট। কি ছিল সেখানে? কেন বারবার একই স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছে সে?

তার স্মৃতির ভেতরে একটা অস্পষ্ট মুহূর্ত ঘুরপাক খায় — বাবার গম্ভীর কণ্ঠ:

 এই চাবি রেখো, এরেন।
সত্যিটা আছে নিচে, সেই ঘরে।
একদিন যখন তুমি প্রস্তুত হবে, তখন…



কিন্তু সেই বাক্যটা শেষ হওয়ার আগেই চিত্রভঙ্গ হয়। আবার সেই ভয়ংকর দৃশ্য। আবার রক্ত। আবার কান্না।


  • সামরিক প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত

কয়েক মাস কেটে যায়। এরেনের চোখে আগুন এখন শুধু ক্ষোভের নয় — লক্ষ্য, লড়াই, প্রস্তুতির আগুন। সে জানে, যদি টাইটানদের বিরুদ্ধে কিছু করতে চায়, তাহলে তাকে শক্তি অর্জন করতে হবে।

এরেন সিদ্ধান্ত নেয় সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার। মিকাসা ও আরমিনও পেছনে থাকে না। তিন বন্ধু মিলে ভবিষ্যতের অজানা পথে পা রাখে।

  • নতুন জীবন, নতুন যুদ্ধ

ট্রেনিং ক্যাম্প। ঠাণ্ডা সকাল, কাঠখোট্টা ইনস্ট্রাক্টরদের হুংকার, নিরলস অনুশীলন — এটাই এখন তাদের জীবন।

এই জায়গায় তারা শেখে কেবল অস্ত্র চালানো নয়, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা আর একে অপরের উপর নির্ভরতা। এখানে যারা দুর্বল, তারা টিকে থাকতে পারে না। কিন্তু এরেন দুর্বল হতে রাজি নয়। সে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত নিজের সীমা ছাড়িয়ে কাজ করে। একটাই লক্ষ্য—সব টাইটানকে ধ্বংস করবে।


প্রথম পরিচয় — কিছু মুখ, কিছু ভবিষ্যত

এই কঠিন প্রশিক্ষণের মাঝেই, এরেন ও তার বন্ধুরা পরিচিত হয় আরও কিছু তরুণ যোদ্ধার সাথে, যারা ভবিষ্যতে তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে:

রাইনার ব্রাউন – চুপচাপ, কিন্তু ভিতরে এক কঠিন দৃঢ়তা।
ব্যার্থোল্ট হুভার – লাজুক, কিন্তু পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা তীক্ষ্ণ।
অ্যানি লিওনহার্ট – নিরুত্তাপ চোখ, নিখুঁত লড়াই কৌশল।
জঁ কির্শটেইন – বাস্তববাদী, এরেনের বিপরীত মেরু। তাদের মতভেদ প্রায়ই সংঘর্ষে রূপ নেয়।
কনি স্প্রিংগার – কিছুটা বোকাসোকা, কিন্তু প্রাণোচ্ছল।
শাশা ব্লাউস – খাবারপ্রেমী, অদ্ভুত কিন্তু দারুণ পর্যবেক্ষক।
ক্রিস্টা লেঞ্জ – কোমল হৃদয়ের মেয়ে, যার হাসিতে যেন অদ্ভুত এক শান্তি।


এই নামগুলো প্রথমে ছিল শুধুই পরিচিতি। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এই নামগুলোই হয়ে উঠবে সাহস, বিশ্বাসঘাতকতা, যুদ্ধ আর প্রেমের প্রতিচ্ছবি।


আগুনের ভিতরে দাঁড়ানো

তিন বছরের ট্রেনিং শেষ হয়।

এরেন জানে, এখন আর পিছিয়ে যাওয়ার পথ নেই। সামনে শুধু যুদ্ধ, মৃত্যু, এবং সম্ভবত সত্য।

কিন্তু সে এখন আর একা নেই। তার পাশে আছে মিকাসা — ছায়ার মতো রক্ষাকবচ, আর আরমিন — তার চিন্তার সমুদ্র।

তাদের সামনে অপেক্ষা করছে এক পৃথিবী — অজানা, ভয়ঙ্কর, আর সত্যের ভারে ডুবন্ত।


ঠিক আছে ✅ আমি তোমার দেওয়া Attack on Heart ধারাবাহিক কাহিনীর স্টাইল ও ফ্লো বজায় রেখে Chapter 3 লিখে দিচ্ছি।


---

Attack on Heart: Chapter 3


"প্রথম লড়াই" — (First Battle)

  • অস্থির শান্তি

প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর এরেন, মিকাসা, আরমিন ও তাদের সহযোদ্ধারা সামরিক বাহিনীতে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পায়। অনেকেই বেছে নেয় মিলিটারি পুলিশ, কারণ সেখানে নিরাপত্তা ও আরাম। কিন্তু এরেন দৃঢ়ভাবে বলে—
"আমি সার্ভে কর্পসে যোগ দেব। প্রাচীরের বাইরে না গেলে টাইটানদের ধ্বংস করা যাবে না।"

এই সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হয়, কেউ আবার বিদ্রুপ করে। তবে মিকাসা ও আরমিন তার সাথে একই পথে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের লক্ষ্য একটাই—প্রাচীরের বাইরের দানবদের মুখোমুখি হওয়া।

হঠাৎ আক্রমণ

সবকিছু যেন স্বাভাবিক হতে চলেছে, এমন সময় বিপদ আবার হানা দেয়।
এক ভোরবেলায়, ট্রস্ট জেলায় হঠাৎ প্রাচীর কেঁপে ওঠে। সবাই আতঙ্কে দৌড়ে আসে প্রাচীরের দিকে।
সেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই ভয়ঙ্কর রূপ — কলোসাল টাইটান!

এক মুহূর্তে তার দানবীয় পা প্রাচীরের উপরে উঠে যায়। এরপর সে প্রচণ্ড আঘাতে গেট ভেঙে ফেলে। আগুন, ধ্বংস আর চিৎকার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

লড়াইয়ের প্রথম স্বাদ

এইবার পালানোর সুযোগ নেই।
নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈনিকদের মাঠে নামতে হয়। এরেন, মিকাসা, আরমিনসহ সবাই ODM গিয়ার পরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের হৃদয় কাঁপছে, কিন্তু পিছিয়ে যাওয়ার পথও নেই।

এরেন চিৎকার করে ওঠে—
"এখনই আমাদের সময়! যদি টাইটানদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারি, তবে এতদিনের প্রশিক্ষণ বৃথা যাবে!"

তারা দল বেঁধে ছুটে যায় টাইটানদের দিকে। প্রথমবারের মতো বাস্তব যুদ্ধে প্রবেশ করে।

মৃত্যুর ছায়া

কিন্তু বাস্তবতা ছিল নির্মম।
একজন একজন করে টাইটানদের হাতে প্রাণ হারাতে থাকে। রক্তে রঞ্জিত হয় রাস্তাঘাট। এরেন প্রথমবার টের পায়—শুধু সাহস যথেষ্ট নয়, টাইটানদের বিরুদ্ধে লড়াই ভয়াবহ কঠিন।

এরেন নিজের সঙ্গীদের মৃত্যু দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। সে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক টাইটানের দিকে। চোখে প্রতিশোধের আগুন।
কিন্তু দুর্ভাগ্য—এক বিশাল টাইটানের দাঁতের মাঝে সে আটকে যায়।

অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত

মিকাসা চিৎকার করে ওঠে—
"এরেন!!"

সবাই ভাবে, এরেন হয়তো আর বাঁচবে না।
রক্ত, কান্না আর চিৎকারের ভেতর হঠাৎ এক অদ্ভুত আলো ছড়িয়ে পড়ে।
টাইটানের পেটে বন্দী হওয়ার বদলে, বিস্ফোরণের মতো কিছু ঘটে। ধোঁয়ার ভেতর থেকে উঠে দাঁড়ায় এক নতুন দানব—এক টাইটান, কিন্তু মানুষের মতো নিয়ন্ত্রণের আভাস আছে।

সে টাইটান অন্য টাইটানদের আক্রমণ শুরু করে!
সবাই হতবাক।

নতুন রহস্য

আরমিন ফিসফিস করে—
"ওটা কি… এরেন?"

মিকাসার চোখে অশ্রু জমে ওঠে, কিন্তু তার হৃদয়ে ভর করে এক নতুন আশা।
শত্রুর মাঝেই হয়তো জন্ম নিচ্ছে মানবজাতির সবচেয়ে বড় অস্ত্র।


 কাহিনীর ধারাবাহিকতা - এই সাইটে বাকি  অংশ আসবে — kothar shesh nai.

পাঠকীয় নির্দেশ: এই গল্পটি রূপান্তর করা হয়েছে 'Attack on Titan' মুল কাহিনীর অনুপ্রেরণায় — অনুগ্রহ করে মালিকানা ও কপিরাইট নীতির প্রতি সম্মান দেখান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ