Attack On Heart Chapter 6-7 | বাংলা গল্পঃ হৃদয়ে আঘাত - কথার শেষ নাই

 

Attack on Heart: Chapter 6

"যে পৃথিবী মেয়েটি দেখেছিল" — (The World the Girl Saw)

যুদ্ধক্ষেত্রের বিশৃঙ্খলা

ট্রস্ট জেলার প্রাচীর ভেঙে টাইটানরা ঢুকে পড়েছে।

নতুন সৈন্যরা ছত্রভঙ্গ, অনেকে নিহত।

এরেনকে হারানোর পর আরমিন হতবিহ্বল হয়ে পড়ে।

তার চোখে অশ্রু, মনে অপরাধবোধ—

"আমি কিছুই করতে পারলাম না… এরেন…!"

মিকাসা এ সময় ঠাণ্ডা মাথায় লড়াই চালিয়ে যায়।

তার গতি, কৌশল—সব অন্যদের থেকে আলাদা।

প্রতিটি আঘাত নিখুঁত, প্রতিটি টাইটানের ঘাড়ে সঠিকভাবে আঘাত করছে।

কিন্তু তার মনে শুধু এক জিনিস—

এরেন।

মিকাসার স্মৃতির দরজা

যুদ্ধক্ষেত্রের রক্তের ভেতর দাঁড়িয়ে হঠাৎ মিকাসার মনে পড়ে তার অতীত—

একটা সময় ছিল, যখন সে ছিল এক সাধারণ মেয়ে।

মা-বাবার সাথে বনের পাশে ছোট্ট কুটিরে থাকত।

কিন্তু একদিন ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।

মানুষের পাচারকারী কিছু লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।

মিকাসার বাবা-মাকে হত্যা করে।

আর মিকাসাকে তারা বন্দী করে নিয়ে যায়।

এরেনের প্রবেশ

ঠিক সেই সময় হাজির হয় এক ছোট ছেলে—এরেন ইয়েগার।

সে একাই লুকিয়ে আসে পাচারকারীদের ঘরে।

ছোট্ট হাতে ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে যায় তাদের সামনে।

এরেনের চোখে ভয় নেই, শুধু জেদ।

সে বলে—

"মানুষ যদি লড়াই না করে, তাহলে মরবে।"

এক ঝটকায় সে এক পাচারকারীকে মেরে ফেলে।

কিন্তু আরেকজন তাকে আঘাত করতে আসে।

মিকাসার জাগরণ

মিকাসা তখন হতবিহ্বল।

কিন্তু এরেন তাকে চিৎকার করে বলে—

"লড়াই করো! যদি এখনই না লড়ো, তুমি মারা যাবে! পৃথিবী নিষ্ঠুর। বেঁচে থাকতে চাইলে শক্ত হতে হবে!"

সেই মুহূর্তে মিকাসার ভেতরে কিছু ভেঙে যায়।

সে প্রথমবার ছুরি তুলে আঘাত করে।

এভাবেই সে নিজের প্রাণ বাঁচায়।

নতুন বন্ধন

পুলিশ পৌঁছালে সব শেষ হয়ে যায়।

এরেন তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে।

কার্লা ইয়েগার (এরেনের মা) তাকে স্নেহ দিয়ে বুকে টেনে নেয়।

আর গ্রিশা ইয়েগার তার হাতে এক লাল স্কার্ফ জড়িয়ে দেন।

এরেন মিকাসাকে বলে—

"এখন থেকে তুমি আমার পরিবার। আমি সবসময় তোমাকে রক্ষা করব।"

সেই দিন থেকে মিকাসা আর একা নয়।

এরেন হয়ে ওঠে তার পৃথিবী।

স্কার্ফটা—তার নতুন জীবনের প্রতীক।

বর্তমানে ফিরে

ফ্ল্যাশব্যাক শেষ হয়।

বর্তমানের মিকাসা যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে রক্তমাখা ব্লেড।

সে নিজের মনে বলে—

"এরেন, তুমি একবার বলেছিলে তুমি সবসময় আমাকে রক্ষা করবে…

এবার আমার পালা। আমি তোমাকে রক্ষা করব।"

তার চোখে জল, কিন্তু ঠোঁটে অদ্ভুত দৃঢ়তা।

সে আবার উড়ে যায় আকাশে, একের পর এক টাইটানকে কেটে ফেলে।


Attack on Heart: Chapter 7


"ছোট ব্লেড" — (Small Blade)


মরিয়া পরিস্থিতি


ট্রস্ট জেলার ভেতর টাইটানরা একের পর এক সৈন্যকে খেয়ে ফেলছে।

রিক্রুটদের গ্যাস প্রায় শেষ।

৩ডি ম্যানুভার গিয়ারের গ্যাস ছাড়া চলা মানে মৃত্যু।

অভিজ্ঞ সৈন্যরাও অসহায় হয়ে পড়েছে।


আরমিন হতাশ হয়ে পড়ে—

এরেন নেই, তার বন্ধুরা একে একে মারা যাচ্ছে।

সে নিজেকে দোষ দেয়, মনে করে—

"আমি কিছুই করতে পারিনি… আমি শুধু বোঝা।"


কমান্ড সেন্টারের সংকট


ট্রস্টের ভেতরের কমান্ড সেন্টারে কিছু সৈন্য এখনো বেঁচে আছে।

কিন্তু তারা টাইটানদের দ্বারা ঘেরা।

ভেতরে থাকা সৈন্যরা বাইরে বের হতে পারছে না, আর বাইরে যারা আছে তারা ঢুকতে পারছে না।

গ্যাস রিফিলের একমাত্র জায়গা ওই সেন্টার।

কিন্তু ওখানে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।


রিক্রুটদের একজন বলে—

"আমরা সবাই মারা যাব। আর কোনো আশা নেই।"


মিকাসার নেতৃত্ব


এই সময়ে মিকাসা নেতৃত্ব নেওয়ার চেষ্টা করে।

সে ঠাণ্ডা মাথায় বলে—

"ভয় পাওয়ার সময় নেই। আমরা মরতে বসেছি, তবু টাইটানদের ফাঁকি দিতে পারি। একসাথে এগোতে হবে।"


তার দৃঢ়তা অন্যদের সামান্য সাহস জোগায়।

কিন্তু গ্যাসের ঘাটতি আর চারদিক থেকে টাইটান আসায় পরিস্থিতি প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।


এক অদ্ভুত টাইটানের আবির্ভাব


ঠিক তখনই তারা দেখে—

এক টাইটান হঠাৎ অন্য টাইটানকে ঘুষি মেরে ফেলে দিল!

তারপর দাঁত দিয়ে চিবিয়ে গুঁড়িয়ে দিল।


সবাই হতবাক হয়ে যায়।

রিক্রুটরা অবাক হয়ে বলে—

"একটা টাইটান… আরেক টাইটানকে মারছে?!"


ওই টাইটান আশেপাশের সব টাইটানকে আক্রমণ করতে থাকে।

তার রাগ, শক্তি—অন্যরকম।

মনে হয় যেন সে ইচ্ছে করেই অন্য টাইটানদের শেষ করছে।


আশার আলো


আরমিন প্রথমে বিশ্বাস করতে চায় না।

কিন্তু তার চোখের সামনে সত্যি হচ্ছে—

এক টাইটান মানুষদের বাঁচানোর মতো আচরণ করছে।


মিকাসা ভাবে—

"এটা… আসলেই কী হচ্ছে? টাইটানরা তো মানুষের শত্রু… তাহলে এই টাইটান কেন?"


তাদের বাঁচার জন্য ছোট্ট এক আশার আলো জ্বলে ওঠে।

কমান্ড সেন্টারে আটকে থাকা সৈন্যদের চোখেও আবার জীবন ফিরে আসে।



---


🔜 চলবে…

পরের অধ্যায় Chapter 8: "Roar" (গর্জন) — যেখানে ওই অদ্ভুত টাইটানের রহস্য আরও ঘন হয়ে উঠবে।


Keywords: Attack On Heart , Bangla Novel, Attack on Titan bangla , Emotional Story

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ